জুড়ীতে আধিপত্য বিস্তারে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ
বার্তালোক ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ জুন ২০২৩, ৭:৩৫ মিনিট
জুড়ী প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারে জুড়ীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সদ্য বিলুপ্ত উপজেলা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে শ্রমিকসহ উভয়পক্ষের ১৫-২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে শ্রমিক আহত ও দুটি সিএনজি গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় রাস্তা অবরোধ করেন উত্তেজিত শ্রমিকরা। খবর পেয়ে জুড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ মোশারফ হোসেনের নেতৃত্বে এক দল পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। ঘটনাটি উপজেলার ভবানীগঞ্জ বাজার চৌমুহনীতে ঘটেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী, সিএনজি শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান- জুড়ীতে ছাত্রলীগের মন্ত্রী গ্রুপ হিসেবে পরিচিত সদ্য বিলুপ্তকৃত উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাহাব উদ্দিন সাবেল গ্রুপের নেতা হুমায়ুন রশীদের নেতৃত্বে ১৫-২০টি মটরসাইকেল নিয়ে একটি মিছিল উপজেলার চৌমুহনী থেকে নিউমার্কেট এলাকায় আসে এবং অপরদিকে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল ভূঁইয়া উজ্জ্বল গ্রুপের নেতা জায়ফরনগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি মিছিল জুড়ী কলেজ থেকে নিউমার্কেট আসে। মিছিল দুটি নিউ মার্কেট এলাকায় এসে পৌছালে দেশীয় অস্ত্রসহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন নেতাকর্মীরা। তখন উভয়ের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে শ্রমিকসহ উভয়পক্ষের ১৫-২০ জন আহত হয়। পরে আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। সংঘর্ষের সময় বলরাম বাউরী নামে এক সিএনজি শ্রমিক আহত ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় শ্রমিকরা তাৎক্ষণিক সড়ক অবরোধ করে। পরে খবর পেয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ মোশারফ হোসেনের নেতৃত্বে এক দল পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। পরে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ দুই দিকে চলে যায়।
ছাত্রলীগের একটি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাতে উপজেলা ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল ভূঁইয়া উজ্জ্বলের কর্মীরা সদ্য সাবেক সভাপতি সাহাব উদ্দিন সাবেলের এক কর্মীকে মারধর করে। এর প্রতিবাদে বুধবার সাহাব উদ্দিন সাবেল গ্রুপের কর্মীরা মিছিল করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।
জায়ফরনগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুল ইসলাম জানান, আমাদের একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল জুড়ী কলেজ থেকে শুরু করে নিউমার্কেট এলাকায় আসলে ছাত্রলীগ নেতা (সাবেল গ্রুপ) হুমায়ুন রশীদের নেতৃত্বে ১০-১৫ টি মটরসাইকেল নিয়ে আমাদের উপর অতর্কিত হামলা করে। এ হামলায় ১০-১২ জন ছাত্রলীগ কর্মী ও সাধারণ ছাত্র আহত হয়েছে। এরপর তারা সিএনজি ভাংচুর করেছে।
এ অভিযোগ অস্বীকার করে সাহাব উদ্দিন সাবেল গ্রুপের ছাত্রলীগ নেতা হুমায়ূন রশীদ জানান, আমরা কলেজ থেকে ছাত্রলীগের মিছিল নিয়ে শহরে আসলে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল ভূঁইয়া উজ্জ্বলের নেতৃত্বে আমাদের উপর পরিকল্পিত ভাবে হামলা করা হয়। এতে আমাদের ৭-৮ জন কর্মী আহত হয়েছে।
হামলার বিষয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল ভূঁইয়া উজ্জল জানান, দু’পক্ষের মিছিল নিয়ে একটি ঝামেলার খবর শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি। আমি হামলার সাথে জড়িত নই।
জুড়ী থানার ওসি তদন্ত হুমায়ুন কবির জানান, ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। এখানে কোন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। তারপরও খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছি।
জুড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন জানান, পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। বিষয়টি আমাদের নজরদারিতে আছে। আমরা দেখতেছি।




