কুলাউড়ায় নৌকার বিজয়ে বাঁধা হতে পারে ট্রাক ও সোনালী আঁশ
বার্তালোক ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ জানুয়ারি ২০২৪, ৪:৩৮ মিনিট
বিশেষ প্রতিনিধি : দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় নির্বাচনী মাঠ সরগরম রয়েছে। প্রার্থীরা শেষ মুহুর্তে ভোটারদের কাছে তুলে ধরছেন নিজেরে উন্নয়ন পরিকল্পনা। এমনকি গ্রামগঞ্জের বাজারের চায়ের দোকানে চলছে পছন্দের প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা। চলছে শেষ সময়ের চুলচেরা বিশ্লেষণ। ভোট টানতে তারা দিচ্ছেন নানা আশ^াস। তবে এ আসনে মাঠ পর্যায়ে ভোটের হিসাব নিকাশে স্বতন্ত্র ও তৃণমূল বিএনপির প্রার্থীর কাছে ধরাশয়ী হওয়ার শঙ্কা রয়েছে নৌকা প্রতিকের প্রার্থীর। এ আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্ধন্ধিতা করছেন আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। বর্তমানে ভোটের মাঠে চলছে ত্রিমুখী লড়াই।
এ আসনে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করলেও মূল আলোচনায় রয়েছেন ট্রাক প্রতিকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সদ্য উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগ করা ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ এ কে এম সফি আহমদ সলমান। সোনালী আশঁ প্রতীকের তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি এম এম শাহীন ও নৌকার প্রার্থী আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিসিবির পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল।
সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন, ২০০১ সালের নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০১৮ পর্যন্ত চারটি সংসদ নির্বাচনে এই আসনে নৌকার প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন। কুলাউড়া আসনে গত নির্বাচনে সুলতান মনসুর এমপি ছিলেন কিন্তু এবার নৌকা না পাওয়ায় তিনি নির্বাচন করছেন না। নতুন করে শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল নৌকা নিয়ে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। ভোটের মাঠে তিনি শক্ত প্রতিপক্ষ। কিন্তু তাঁর রাজনীতিসহ সকল কর্ম সিলেট কেন্দ্রীক। আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন এসব দিক দিয়ে গত করোনা মহামারি, বন্যাসহ সকল দুর্যোগে অধ্যক্ষ সফি আহমদ সলমান মানুষের পাশে সবসময় অতন্দ্র প্রহরীর মতো ছিলেন। কিন্ত এবারের নির্বাচনে যারা প্রার্থী হয়েছেন তারা কেউই এসব দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে না থাকায় সমীকরণে স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যক্ষ সফি আহমদ সলমান রয়েছেন অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে। উপজেলা আওয়ামীলীগের সিংহভাগ নেতা নৌকার পক্ষে মাঠে কাজ করছেন। নৌকার পক্ষে ভোট চাইতে তারা সাধারণ জনগণের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। পুরো উপজেলা চষে বেড়াচ্ছেন আওয়ামীলীগসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের অধিকাংশ অন্য নেতাকর্মীরাও।
অপরদিকে ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যক্ষ এ কে এম সফি আহমদ সলমান বিগত উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে নৌকার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হোন। ওই নির্বাচনে নৌকার ভোটখ্যাত সবগুলো চা বাগানে তাঁর ব্যাক্তিগত জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে ৯০ ভাগ ভোট পান। তিনি ১৯ বছর কাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।
শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় প্রার্থীসহ তার সমর্থকরা ব্যস্ত সময় পার করলেও ভোটারদের কেন্দ্রে উপস্থিত বাড়াতে চেষ্টা করছেন সব প্রার্থীই। এ আসন নৌকার জন্য উর্বর হলেও এবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতীক ট্রাক। দিন দিন ট্রাক প্রতীকের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এদিকে সাবেক দুইবারের এমপি এম এম শাহীন তৃণমূল বিএনপির সোনালী আঁশ প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে রয়েছেন সক্রিয়। অত্যন্ত জনপ্রিয় এই নেতা ২০০১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে তৎকালীন এমপি ও আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মনসুর আহমদকে পরাজিত করে দেশব্যাপী আলোচনায় আসেন। এ নির্বাচনে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও তৃণমূল বিএনপির সুবিধা কাজে লাগিয়ে নির্বাচনের বৈতরণী পার হয়ে গেলে অবাক হবার কিছুই থাকবেনা।
এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতায় রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল মতিন (কাঁচি), জাতীয় পার্টির আব্দুল মালিক (লাঙ্গল), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এনামুল হক মাহতাব (মোমবাতি), ইসলামী ঐক্যজোটের আছলাম হোসাইন রহমানী (মিনার) ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের মো. কামরুজ্জামান সিমু (কুলা)।
কুলাউড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত মৌলভীবাজার-২ আসন। এ আসনের ১৩টি ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভায় মোট ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ৮৫ হাজার ৪৭২। এরমধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৪৬ হাজার ৬৩৫ এবং মহিলা ভোটার ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৭ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ১০৩।




