সুলতান মনসুরের বিচারের দাবিতে কুলাউড়ায় বিএনপির আনন্দ মিছিল
বার্তালোক ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ০১ অক্টোবর ২০২৪, ২:২২ মিনিট
কুলাউড়া প্রতিনিধি : সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদের গ্রেপ্তারের খবরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তাকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে কুলাউড়ায় আনন্দ মিছিল করেছে উপজেলা বিএনপি৷ সোমবার রাত সাতটায় কুলাউড়া পৌরশহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি। উপজেলা বিএনপি (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ চৌধুরী, সহ-সভাপতি আজিজুর রহমান মনির, আব্দুল জলিল জামাল, কমর উদ্দিন আহমদ কমরু, রফিক মিয়া ফাতু, ইছহাক চৌধুরী ইমরান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মইনুল হক বকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মুক্তাদির মুক্তার ও দেলোয়ার হোসেন,দপ্তর সম্পাদক মোহিতুর রহমান মুহিত, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মো. মোক্তার, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম রাজুসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মীরা মিছিলে অংশ নেন।
এর আগে গতকাল ভোরে কানাডা থেকে দেশে ফিরেই গ্রেপ্তার হলেন ডাকসুর সাবেক ভিপি ও আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ। ৩০ সেপ্টেম্বর সোমবার ভোরে কানাডা থেকে দেশের ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। এদিকে গত বছরের ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশে যুবদল নেতা শামীম হত্যা মামলায় ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাগীব নূর রিমান্ডের এ আদেশ দেন। সোমবার তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তন্ময় কুমার বিশ্বাস। শুনানি শেষে বিচারক তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন।সুলতান মনসুর গ্রেপ্তার হলে তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন মন্তব্য করেন দেশ-বিদেশে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীরা। কারণ ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এমপি নির্বাচিত হয়ে প্রতারণা করে সুলতান মনসুর সংসদে গিয়ে সুর পাল্টিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামীলীগের গুনকীর্তন করতে দেখা গেছে। ওই নির্বাচনে কুলাউড়ায় বিএনপির তিন নেতা বেলায়েত হোসেন চৌধুরী শাহিন, ইউপি সদস্য চেরাগ আলী ও মোস্তফা মিয়া আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের হামলার স্বীকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। এমনকি বিএনপির প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী হামলা-মামলার শিকার হয়ে পুলিশি ভয়ে বনে, জঙ্গলে, কবরস্থানে রাত্রীযাপন করেছিলেন।
২০১৮ সালে কুলাউড়ার ডাকবাংলো মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য তিনি ধানের শীষে ভোট ভিক্ষা চেয়ে বলেন, মাত্র ২ কোটি টাকার মামলায় একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে কারাগারে আর ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ কোটি কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার করছে। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক। তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা নিজ কানে শুনেছেন। এমন অবাক করা বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা তাঁর জন্য জানপ্রাণ দিয়ে মাঠে কাজ করে তাকে বিজয়ী করেন। কিন্তু নির্বাচনের পর তিনি ডিগবাজি দিয়ে বলতে শুরু করেন, তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করেন। আওয়ামীলীগ আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করেনি। আমিও আওয়ামী লীগ ছেড়ে অন্য কোনো দলে যোগ দেইনি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে লালন করে রাজনীতি করছি। যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়েই রাজনীতি করে যাবো। কোথাকার এক মেজর স্বাধীনতার ঘোষণা কিভাবে করে? এদেশে রাজনীতি করতে হলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে মেনে রাজনীতি করতে হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে সুলতান মনসুর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সুলতান মনসুর বিজয়ী হন। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্ধিতা করে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। তবে ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক না পেয়ে তিনি নির্বাচনে অংশ নেননি।




