কুলাউড়ায় ৬টি সেতু দেবে যাওয়ার দায় কার? ভোগান্তিতে মানুষ
বার্তালোক ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ অক্টোবর ২০২২, ৫:৩১ মিনিটনিজস্ব প্রতিবেদক : মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ফানাই নদীর ওপর নির্মিত ৬টি গ্রামীণ সড়কের সেতু নদী পুনঃখননের পর ভেঙে ও দেবে গিয়েছে। প্রায় দেড় বছর ধরে দেবে যাওয়া সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন ৪টি ইউনিয়নের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ। এসব সেতু দেবে যাওয়ার জন্য এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বলছেন ‘ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অপরিকল্পিতভাবে নদী পুনঃখনের জন্য সেতুগুলো দেবে গেছে। বাপাউবো কর্তৃপক্ষ বলছেন ‘কর্তৃপক্ষ নদীর পরিমাপ বিবেচনায় না নিয়ে অপরিকল্পিতভাবে সেতু নির্মাণ করায় এখন সেতু দেবে গেছে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফানাই নদীর ওপর ২০১১-১২ অর্থবছরে ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তরের সেতু কালভার্ট নির্মাণ কর্মসূচীর আওতায় ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে রাউৎগাঁও ইউনিয়নের পালগাঁও-মুকুন্দপুর যাওয়ার রাস্তায় কোরপান উল্ল্যাহর বাড়ির নিকট ৪০ ফুট প্রস্থের একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ভবানীপুর-হেলাপুর সড়কে আরেকটি সেতু নির্মাণ করা হয়। ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উদ্যোগে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলার হাসিমপুর-লক্ষ্মীপুর সড়কে একটি, রাউৎগাঁও ইউনিয়নের ভবানীপুর-নর্তন-তিলাসীজুড়া সড়কে একটি, মুকুন্দপুর কবিরাজী সড়কে একটি, গুতগুতি-কবিরাজী সড়কে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। এদিকে ২০২১-২২ অর্থবছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ফানাই নদীর প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকা খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর) দিয়ে পুনঃখনন করে। কাজ সম্পন্নের আগেই অতিবৃষ্টিতে উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নামে। তখন এসব সেতুর মধ্যবর্তী স্থান দেবে গিয়ে ভেঙ্গে যায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পালগাঁও-মুকুন্দপুর যাওয়ার রাস্তার ওপর সেতুটি গত ৫ মাস আগে পাহাড়ী ঢলে ও অপরিকল্পিত খননের কারণে ভেঙ্গে যাওয়ায় স্থানীয় এলাকার লোকজন বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। যেকোন সময় এই সাঁকো ভেঙ্গে ঘটতে পারে বড়ধরণের দুর্ঘটনা। এছাড়া অন্য ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করছে। ৬টি সেতুর মধ্যে ২টি সেতু এক বছর আগে দেবে গিয়েছে। এলজিইডি’র সাইনবোর্ড আর লাল পতাকা বাঁধা রয়েছে। এটা দেখে ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ ও যান চলাচল করছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, অপরিকল্পিত নদী খননের কারণে এই ব্রীজগুলো দেবে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা তাজুল ইসলাম জানান, এই ফানাই নদীটি ৬০ ফুট প্রস্থের, সেখানে ৪০ ফুট প্রস্থের সেতু কিভাবে তৈরি করা হলো সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। নদীতে আরো বড় সেতু নির্মান করা দরকার ছিল। নদী পুনঃখননের পর থেকেই সেতুগুলো দেবে গিয়েছে। এখন এলাকার মানুষের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে ব্রীজগুলো নতুন করে নির্মাণ করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
কুলাউড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শিমুল আলী বলেন, ত্রাণ ও দুর্যোগ অধিদপ্তরের আওতায় ৫০ ফুট প্রস্থের ব্রীজ করার অনুমোদন রয়েছে। কিন্তু ফানাই নদী খননের পর নদীর প্রস্থ বেড়েছে অনেক। ফানাই নদী খননের পূর্বে ৪টি ব্রীজ নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহবান করা হয়েছিল। নদীর প্রস্থ বেড়ে যাওয়ার কারণে পরবর্তীতে ওই ৪টি ব্রীজ অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে আমাদের দপ্তর থেকে ৫০ ফুট প্রস্থের বেশি বড় সেতু বাস্তবায়নের এখন কোন সুযোগ নেই।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এলজিইডির মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আজীম উদ্দীন সরদার বলেন, তিনি সম্প্রতি সরেজমিনে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলো দেখেছেন। ‘অপরিকল্পিত’নদী পুনঃখননের কারণে সেতুগুলোর এ অবস্থা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, ফানাই নদীর ওপর ৪টি সেতু নতুন করে নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে গুরুত্ব দেখিয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। সেতু বাস্তবায়নের বিষয়টি এখন প্রক্রিয়াধীন আছে।
‘অপরিকল্পিত’নদী পুনঃখননের অভিযোগটি অস্বীকার করে বাপাউবোর মৌলভীবাজার পওর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, নদীর পরিমাপ অনুযায়ীই বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাষণের জন্য পুনঃখনন কাজ হয়েছে। সেতুগুলো তৈরি করা হয়েছে অনেক আগে। এসময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদীর পরিমাপ বিবেচনায় আনেনি। ফলে, সেতুর এ অবস্থা ঘটেছে। তিনি আরো বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে আলোচনা করে নদীর গভীরতা যাচাই করে সেতুগুলো যদি নির্মাণ করা হতো তাহলে সেতুগুলো দেবে যেতনা এবং সরকারের টাকার অপচয় হতো না।




