মোশারফ এর রক্তদানে ডাবল সেঞ্চুরি !
বার্তালোক ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:০১ মিনিট
বার্তালোক ডেস্ক : বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রক্তদাতা নারায়ণগঞ্জের মোঃ মোশারফ হোসেন, রক্তদান করেছেন ২০১ বার, রক্তের গ্রুপ এ পজেটিভ।
বাংলাদেশে উনিই প্রথম ২০১ বার বা রক্তদানে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন!
রক্ত বানানো যায় না, একজন সুস্থ সবল মানুষই পারে আরেকজন অসুস্থ মুমূর্ষু রোগীকে রক্তদান করতে।
তাই রক্তদানে এগিয়ে আসুন নিজে সুস্থ থাকুন, অন্যকে সুস্থ রাখতে সহযোগিতা করুন।
আল্লাহ বাঁচাবে প্রাণ, আমরা করবো স্বেচ্ছায় রক্ত, এই কথাকে বুকে ধারণ করে সেই ১৯৯৭ সালে প্রথমবারের মতো রক্ত দিয়েছিলেন।
সেই যে রক্তদান শুরু করেছিলেন তা আজ অবধি চলছে। গত ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ২০১ তম বারের মতো A+ রক্তদান করেছেন, এর মধ্যে হোল ব্লাড হচ্ছে ১০৬ বার আর প্লাটিলেট দিয়েছেন ৯৫ বার।
শুধু রক্ত দান করে থেমে নেই, পাশাপাশি রক্তদানে আগ্রহী মানুষদেরও খুঁজে বের করেন। তারপর রোগীর স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ ঘটিয়ে দেন। এভাবে কয়েক হাজার মানুষকে রক্ত যোগাড় করে দিয়েছেন।
তাঁর সঙ্গে এখন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেন বাংলাদেশের ৬৪ জেলার অসংখ্য মানুষ।
তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রক্তদাতা হিসেবে বিভিন্ন ব্লাড ব্যাংক এবং সংগঠন থেকে পেয়েছেন অসংখ্য সম্মাননা।
🩸রক্তদানের নিয়ম সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি আমাদেরকে জানান।
চিকিৎসকদের মতে প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ নারী-পুরুষ চাইলেই নির্দিষ্ট সময় পরপর রক্ত দিতে পারেন।
১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সের মধ্যে শারীরিকভাবে সুস্থ নারী ও পুরুষ রক্ত দিতে সক্ষম।
এক্ষেত্রে হোল ব্লাড দেওয়ার সময় পুরুষের ওজন থাকতে হবে অন্তত ৪৮ কেজি, আর প্লাটিলেট দেওয়ার জন্য ৬০ কেজির উপরে হতে হবে এবং নারীদের হোল ব্লাড দেওয়ার জন্য অন্তত ৪৫ কেজি হতে হবে, আর প্লাটিলেট দেওয়ার জন্য ৫৮ কেজির উপরে হতে হবে🩸
🩸প্লাটিলেট দেওয়ার নিয়ম, একজন সুস্থ মানুষ প্রতি ১৪ দিন পর পর প্লাটিলেট দিতে পারেন।
আর হোল ব্লাড দিতে পারে ৯০ থেকে ১২০ দিনের মধ্যে।
আর প্লাটিলেট দেওয়া শুরু করতে হবে, হোল ব্লাড দেওয়ার ঠিক এর দুই মাস পর থেকে, ১৪ দিন পর পর প্লাটিলেট দিতে পারবে। আবার যখন হোল ব্লাড দেওয়ার সময় হবে ঠিক এর এক মাস পূর্ব থেকে প্লাটিলেট দেওয়া বন্ধ করতে হবে, এটি হলো রক্তদানের সঠিক নিয়ম।
আমি এই নিয়ম মেনেই রক্তদান করি।
আমার রক্তদানের পূর্বে আমি ডাক্তার সাহেবের পরামর্শ নেই এবং ডাক্তার সাহেব আমার সম্পূর্ণ শরীর চেকআপ করেন, ডাক্তার সাহেব যদি বলেন রক্ত দেন, তাহলে আমি রক্ত দেই।
আর যদি ডাক্তার সাহেব আমাকে রক্ত দিতে নিষেধ করেন,তাহলে আমি রক্ত দেই না🩸
রক্তদানের উপকারিতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন।
আলহামদুলিল্লাহ, আমি এখন পর্যন্ত সুস্থ আছি।
আমার মত যারা নিয়মিত নিয়ম মেনে রক্তদান করেন তারা সবাই সুস্থ আছেন।
রক্তদানের অনেক উপকারিতা আছে এর মধ্যে সবচেয়ে বড় উপকার একজন মুমূর্ষু রোগীকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানোর সহযোগিতা করা এবং নিজের উপকার হচ্ছে হার্ট এটাকের ঝুঁকি কমানো।
রক্তদানের আরো অসংখ্য উপকারিতা আছে যা স্বল্পপরিসরে বলে শেষ করা যাবে না আপনারা চাইলে গুগলে সার্চ করে দেখে নিতে পারেন।
সকলের উদ্দেশ্যে আপনার কিছু বলার আছে কি ?
আমার সর্বশেষ একটি কথা হচ্ছে দুই বাহুকে বিয়ে নয় থ্যালাসেমিয়া মুক্ত বাংলাদেশ করতে চাই।
বিয়ের পূর্বে ছেলে এবং মেয়ে উভয়ের রক্ত পরীক্ষা করে দেখতে হবে তারা থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত কিনা, যদি থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত হয় তাহলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী তাদের বিয়ে করা উচিত।



