কুলাউড়ায় খাসিয়াসহ বনখেকোদের বিরুদ্ধে নানা প্রদক্ষেপ নেয়ায় রোষানলে রেঞ্জ কর্মকর্তা
বার্তালোক ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ৫:৪৯ মিনিট
বিশেষ প্রতিনিধি : সিলেট বন বিভাগের কুলাউড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা (সদ্য সাবেক) রিয়াজ উদ্দিন রেঞ্জার হিসাবে ৩ বছর ও বিট অফিসার হিসাবে ৩ বছর মোট ৬ বছরে চাকুরী কালীন সময়ে খাসিয়াদের বিরুদ্ধে নানা পদক্ষেপ গ্রহন, খাসিয়াদের কবল থেকে জমি উদ্বার করে প্রায় ১ হাজার একর জায়গায় সামাজিক বনায়ন করা, গাছ ও বাঁশ জব্দ করা, বন অপরাধীদের উপর একাধিক মামলা দেওয়া এবং হাতে নাতে গাছ চুর ও খাসিয়াদেরকে আটক করে কোর্টে সোপর্দ করায় বিভিন্ন চক্র তাঁর উপর ছিল নাখোশ। বর্তমানে ঐ চক্র তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ দিয়ে হয়রানির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও বরমচাল, গাজিপুর, মুরইছড়া, নলডরী বিটে বিভিন্ন বিটে বনায়ন করতে গিয়ে খাসিয়াদের সাথে বিরোধ,মামলা-হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন বাঁধা টপকিয়ে রেঞ্জার খাসিয়াদের কবল থেকে বনভূমি উদ্বার করে বাঙ্গালীদেরকে নিয়ে সামাজিক বনায়ন করতে সক্ষম হন।
জানা যায়, বরমচাল বিটের ইছলাছড়া এলাকার রিজার্ভ ফরেস্টের ১ হাজার একর বনভূমি দীর্ঘ প্রায় ৬০ বছর হতে খাসিয়া সম্প্রদায়ের দখলে। তারা যুগ থেকে বাড়িঘর তৈরী সহ পানচাষ করে খাচ্ছে। অতীতে বন বিভাগ বা প্রশাসন খাসিয়াদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ২০২১-২২ সনে উক্ত বরমচাল বিটে ১৭ হেক্টর একর জায়গায় রেঞ্জার সামাজিক বনায়নের উদ্যেগ নিলে চারা রোপনে খাসিয়ারা বাঁধা দেয় এবং আদালতে নিষেধাজ্ঞার মামলা করে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা পায়। ফলে চারা রোপন কাজ বন্ধ হয়ে যায়। খাসিয়াদেরকে তৎকালীন আওয়ামীলীগের কিছু রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ প্রশ্রয়ও দেন। পরবর্তীতে আদালত কর্তৃক রায় বনবিভাগের পক্ষে আসায় স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে সামাজিক বনায়ন করা হয়। বনায়নের একটু অদুরে দুটি টিলায় বালিকোনা নামক স্থানে অনুমান ১৫ একর ভূমি বেশ কয়েক বছর পূর্বে কয়েকজন বাঙ্গালী খাসিয়াদের দখল হতে উদ্ধার করে আকাশমনি বাগান করেন। আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারও আশ্রয়ে বাগানটি দখলের চেষ্টা করে খাসিয়ারা। কিন্তু রেঞ্জারের দৃঢ়তার কারণে খাসিয়ারা সফল হতে পারেনি। এক পর্যায়ে কিছু বাঙ্গালীকে ম্যানেজ করে রাতের অন্ধকারে ইওট নামক খাসিয়া সেখানে একটি ঘর তুলে। রেঞ্জ কর্মকর্তা অবৈধ ঘরটি ভেঙ্গে দিয়ে ইওট খাসিয়াসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে বন আদালতে মামলা করেন। পরবর্তীতে গত রোজার মাসে রাতের অন্ধকারে ইওট খাসিয়া ও তার সহযোগীরা মিলে সামাজিক বনায়নের স্থান হতে গাছ চুরি শুরু করলে রেঞ্জ কর্মকর্তা তার অধীনস্থ বরমচাল বিট কর্মকতাকে দিয়ে গাছ জব্দ ও উদ্ধার পূর্বক মামলা দায়ের করেন।
বনবিভাগের সূত্র মতে, কুলাউড়ার ১৩ হাজার একর বনভূমির মধ্যে ৮ হাজার একর বনভূমি গত ৫০-৬০ বছর থেকে খাসিয়ারা জবর দখল খাচ্ছে। বর্তমানে ৫ হাজার একর বনভূমি রয়েছে সেগুলোতে কয়েকটি বাঁশ মহাল, সামাজিক বনায়ন, বাঁশ ও বেতের বাগান ইত্যাদি রয়েছে। টাকার অংকে সরকারী সম্পদ বলতে ৫ হাজার একর বনভূমি আর বাঁশমহাল এবং সামাজিক বনায়ন আছে। কিন্তু খাসিয়ারা ও বনখেকোরা বিভিন্ন জায়গায় বলছে সাবেক রেঞ্জার রিয়াজ উদ্দিন কোটি টাকা নাকি আত্মসাৎ করে ফেলেছেন। বনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যে বন কর্মকর্তা জীবন বাজি রেখে খাসিয়াদের কাছ থেকে বনভূমি উদ্বার করে সামাজিক বনায়ন করে সফল হওয়ায় সিলেট বিভাগে রেঞ্জারদের মধ্যে শুদ্বাচার পুরষ্কার লাভ করলেন এখন বদলী হওয়ার পর তাকে নিয়ে খাসিয়া ও কতিপয় দুস্কৃতিকারীরা উঠে পড়ে লেগেছে।
সাবেক রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন জানান, তার কুলাউড়ায় দুই মেয়াদে চাকুরীকালীন সময়ে ১ ইঞ্চিও জায়গা খাসিয়াদেরকে জবর দখল করতে দেননি তিনি। উপরুন্ত খাসিয়াদের কবল থেকে কমপক্ষে ৪ শ একর বনভূমি উদ্বার করে এবং অন্যান্য মিলে প্রায় ১ হাজার একর জাযগায় সামাজিক বনায়ন করেছেন। বরমচালে খাসিয়াদের কবল থেকে জমি উদ্বার করে বনায়ন করায় তাকে শুদ্বাচার পুরষ্কার দেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা। তিনি বলেন,‘কুলাউড়া রেঞ্জে রেঞ্জার হিসাবে আমার চাকুরী কাল প্রায় তিন বছর হওয়ায় স্বাভবিক নিয়মে আমাকে বদলী করা হয়। বদলীর আদেশ হওয়ার পর একটি স্বার্থান্বেষী মহল ও ভূমি খেকোচক্র নামে বেনামে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন কল্পকাহিনী সাজিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন।’
সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো: হুমায়ুন কবীর জানান, বনবিভাগে কুলাউড়া রেঞ্জে অতীতে অনেক ভাল কাজ হয়েছে। বনের জমি জবর দখল থেকে উদ্বার করা হয়েছে। সামাজিক বনায়ন হয়েছে। পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। অনেকে অতীত নিয়ে অপপ্রচার সৃষ্টি করছেন। নানা কাল্পনিক দূর্নীতির কথা বলছেন তা সঠিক নয়। যেখানে সারা বাংলাদেশে বনবিভাগের উন্নয়ন বাজেট ২৮৯ কোটি টাকা। সেখানে শুধু কুলাউড়ায় কিভাবে ১ শ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়। কুলাউড়া রেঞ্জে যা হয়েছে তা হলো জবরদখলকারীদের নিকট থেকে বন উদ্বার এবং সরকারী বনায়ন রক্ষা এবং সফল কয়েকটি অভিযান। এরপরেও আমাদের কাছে কেউ আসলে তাদের কথা আমাদের শুনতে হয়।




