মুগ্ধতা ছড়ানো এম আর খান চা বাগানের গোলটিলা
বার্তালোক ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ আগস্ট ২০২৩, ৮:৪০ মিনিট
বিশেষ প্রতিনিধি: প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা। দেশের সর্বাধিক চা-বাগান থাকায় মৌলভীবাজার জেলায় দেশী-বিদেশে বাংলাদেশের চায়ের রাজধানী নামে খ্যাত। একটি পাতা দুটি কুঁড়ির দেশ মৌলভীবাজার জেলায় একটি চা-বাগানের নাম এম আর খান চা বাগান। এ বাগানের একটি টিলা পর্যটকদের খুব বেশি আকৃষ্ট করছে। তবে শ্রীমঙ্গল উপজেলার এম আর খান চা বাগানের ৭ ও ১০ নম্বর সেকশনের মধ্যবর্তী এই টিলাটি ‘গোলটিলা’ নামে পরিচিত। টিলার আকৃতি গোলাকার হওয়ায় বাগান কর্তৃপক্ষ এ টিলাতে পরিকল্পিতভাবে চা-বাগান করার পরিকল্পনা নেন। তারা ২০০৬-০৭ সালে এখানে চা-গাছ রোপণ করেন। বাগানের সৌন্দর্যরক্ষায় শ্রীমঙ্গল ‘গোলটিলা’ এই টিলায় রোপণ করা হয়নি কোনো ছাড়া বৃক্ষ। ওই দুই সেকশনের ৭একর জায়গায় রোপণ করা চা-গাছ বড় হয়ে এখন সৌন্দর্য মেলে ধরেছে। টিলার অবয়ব পেয়েছে ভারতের দার্জিলিং চা-বাগানের আদলে। সরেজমিন দেখা গেছে, ‘গোলটিলার’ চার পাশে সবুজের সমারোহ। নীল আকাশের নিচে সবুজ গালিচা পেতে আছে সজীব প্রকৃতি। উঁচু-নিচু টিলা আর টিলাঘেরা সমতলে সবুজের চাষাবাদ। সবুজ গালিচা দেখলে মনে হয়, যেন কোনো শিল্পীর তুলিতে আঁকা ছবি। এই টিলাটি এখন পর্যটনের জন্য নতুন দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠেছে। প্রকৃতির এই সৌন্দর্যকে পরিপটি করে সাজিয়ে এলাকার সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তুলছেন বাগান কর্তৃপক্ষ। তারা দর্শনার্থীর জন্য সিমেন্টের তৈরি দুটি বসার বেঞ্চ বানিয়ে রেখেছেন। দর্শনার্থীর হাঁটাচলার জন্য খালি রাখা হয়েছে টিলার মধ্যবর্তী স্থান। টিলায় ওঠা দর্শনার্থীদের বিশ্রামের জন্য রয়েছে দুটি গোল ঘর। রয়েছে একটি ওয়াশ রুম। আরও রয়েছে প্রায় পাঁচ ফুট লম্বা একটি ওয়াচ টাওয়ায়। টাওয়ারে রয়েছে টাইলস মোড়ানো দুটি বেঞ্চ। এই টাওয়ারে উঠে পর্যটকরা গোলটিলার অপরূপ সৌন্দর্য অবলোকন করতে পারেন। প্রতিদিনই শত শত পর্যটকরা এ টিলা দেখতে আসছেন। ভিড় করছেন স্থানীয় দর্শনার্থীও। টিলায় উঠে চা-বাগানে ছবি তুলছেন, উঠছেন নিজেরাও। এই টিলার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে পর্যটকরা এ টিলার নাম দিয়েছেন ‘দার্জিলিং টিলা’। চা-বাগানের গেটম্যান আবদুল আহাদ বলেন, এখন প্রতিদিন এক থেকে দেড় শ মানুষ আসেন এই টিলা দেখতে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ছয় থেকে সাত শ মানুষ আসেন। বাগানে প্রবেশ করতে কোনো ফি দিতে হয় না। শুধু যানবাহনের নম্বর রেজিস্ট্রি খাতায় লিখিয়ে যেতে হয়। শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন বলেন, আমরাও চাই চা-বাগান কেন্দ্রিক পর্যটন গড়ে উঠুক। বাগান কর্তৃপক্ষ যদি চান আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।




