কুলাউড়া উপজেলা হাসপাতালের সম্মুখে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত হলো অস্থায়ী ভাসমান সেতু
বার্তালোক ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ জুন ২০২৪, ৫:৫১ মিনিট
কাওছার আহমদ, স্টাফ রিপোর্টারঃ
মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায় গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে বন্যার পানিতে তলিয়ে রয়েছে কুলাউড়ার নিম্নাঞ্চলসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। বর্ষার শুরুতে ১০ দিন থেকে প্লাবিত কুলাউড়া সরকারি হাসপাতালের যাতায়াতকারীরা চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রোগীদের। হাঁটুপানিতে নিমজ্জিত হাসপাতাল প্রাঙ্গন ও প্রধান সড়কে রোগীদের দুর্ভোগ লাঘব করার জন্য কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবীর উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে একটি অস্থায়ী ভাসমান সেতু।
আগত রোগীরা যেনো স্বাচ্ছন্দ্যে হাসপাতালে আসতে পারেন তার জন্য হাসপাতালের সম্মুখে একটি ভাসমান সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সম্পাদক আতিকুর রহমান আখই, ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন সুমন ও আব্দুল কাইয়ুম সহ কয়েকটি সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা। তাদের ঐকান্তিক স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত হয় ৩০০ ফুট দৈর্ঘ্য এই ভাসমান সেতুটি।
গত ২০২২ সালের বন্যার সময় হাসপাতাল সড়কে ভাসমান সেতু তৈরি করে প্রশংসিত হয়েছিলেন ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সম্পাদক আতিকুর রহমান আখই, ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন সুমন ও আব্দুল কাইয়ুম। এবারও তারা এগিয়ে এলেন। ২৫ জুন মঙ্গলবার সকালে তারা এই ভাসমান সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলেন।
কুলাউড়া ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আখই বলেন, বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে হাসপাতালটি। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা। হাসপাতাল সড়কটি তলিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কেউই এই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসেননি। এছাড়া ড্রেনের ময়লা-আবর্জনায় পানি দূষিত হওয়ার কারণে এই পানি মাড়িয়ে যারা চলাচল করছেন তারা চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা হাজারো রোগী ও তাদের স্বজনদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বানে ২য় বার এই ভাসমান সেতু স্বেচ্ছাশ্রমে তৈরি করা হচ্ছে। এতে করে কিছুটা হলেও সহজ হবে যাতায়াত ব্যবস্থা। আমরা আশা রাখছি, অচিরেই স্থায়ীভাবে এই দুর্ভোগ লাগবে সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন রাস্তাটি উঁচুকরণের উদ্যোগ নেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: ফেরদৌস আক্তার বলেন, গত অর্থবছর হাসপাতালের সামনে ড্রেন ও সড়ক উঁচুকরণের জন্য স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের মাধ্যমে একটি প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও সেটির কোন সুরাহা হয়নি। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত করেছি। হাসপাতাল আঙ্গিনা প্রধান সড়ক থেকে প্রায় দেড় ফুট নিঁচু হওয়ায় একটু বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ড্রেন ও রাস্তা উঁচু করলে এমন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবেনা। এই সেতুটি খুবই ভালো এবং সময়োপযোগী উদ্যোগ। আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রচুর রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য যথেষ্ট সুবিধা হয়।




