কুলাউড়ায় ভাইয়ের নির্যাতনের কবল থেকে রক্ষা পেতে চান প্রতিবন্ধী নারী
বার্তালোক ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ মে ২০২৩, ৯:০০ মিনিটমৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নে চাচাতো ভাইয়ের নির্যাতনের কবল থেকে রেহাই পেতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন জলিকা বেগম (৫৮) নামের এক অসহায় প্রতিবন্ধি নারী। দীর্ঘদিন থেকে নির্যাতনের পাশাপাশি নিজের ভিটা-মাটি ও সম্পদ থেকে ওই নারীকে বঞ্চিত করতে নানা পায়তারা করছেন চাচাতো ভাই আব্দুল খালিক ও তার স্ত্রী সাহিনারা বেগম। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে গ্রামবাসী একাধিক সালিশ বৈঠক করলেও সুরাহা না হওয়ায় গত ১৭ মে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে নির্যাতিতা জলিকা বেগম একটি লিখিত অভিযোগ করেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং কুলাউড়া থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে একজন উপ-পরিদর্শককে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বেশ আলোচনা চলছে। নির্যাতিতা ওই নারী বর্তমানে পঞ্চায়েতের এক মুরব্বির বাড়িতে আশ্রয়ে আছেন।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাউৎগাঁও ইউনিয়নের কবিরাজী গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত প্রাইমারি শিক্ষক আব্দুল খালিকের চাচাতো বোন হন জলিকা বেগম। জলিকা বেগমের কোন ভাই বোন নেই। প্রায় ২৫ বছর পূর্বে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মিনারমহল গ্রামের খোরশেদ মিয়ার সাথে জুলেকা বেগমের বিয়ে হয়৷ বিয়ের কয়েক বছর তাদের সংসার চলে। তাদের ঘরে জন্ম নেয়া ১৯ বছর বয়সী একমাত্র ছেলে শামীম অনেক আগেই মারা গেছে। এরপর স্বামীর সাথে বিচ্ছেদ হওয়ায় তিনি বাবার বাড়িতে বসবাস করছেন। পৈত্রিক সূত্রে জলিকা বেগমের প্রায় সাড়ে চার একর স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। একই বাড়িতে চাচাতো ভাইয়েরও অবস্থান। তিনি একা হওয়ায় ভাইয়ের আশ্রয়ে ছিলেন। কিন্তু চাচাতো ভাই আব্দুল খালিক ও তার স্ত্রী সাহিনারা বেগম প্রায়ই শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। এমনকি জুলেকার স্বামীর কাছ থেকে দেনমোহর বাবদ সাড়ে তিন লাখ টাকা তারা আদায় করেন তাকে দেখাশোনা করবেন বলে। কিন্তু তারা সেই কথা না রেখে জুলেকাকে বাড়ির একটি পরিত্যক্ত ঘরে থাকতে দেন৷ ঠিকমত খাবার দেয়া হতো না অসুস্থ হলে সঠিক চিকিৎসা দেয়া হতোনা। তাদের এমন নির্যাতনে জুলেকা বেগম এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন৷ কিছুদিন পূর্বে এলাকায় চাউর হয় জলিকা বেগমের কোন সম্পদ নাই। গত ১১ মে জলিকা বেগমের ওপর নির্যাতন চালায় চাচাতো ভাই আব্দুল খালিক ও তার স্ত্রী সাহিনারা।
জলিকা বেগমের অভিযোগ, তাকে ওইদিন মারধর করার পর একটি খালের পাড়ে নিয়ে রেখে আসেন নির্যাতনকারীরা। বিষয়টি তিনি স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের মুরব্বিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করেন। এ নিয়ে এলাকাবাসী কয়েকদফা সালিশ বৈঠক করলেও কোন সুরাহা হয়নি। অবশেষে নির্যাতিতা জলিকা বেগম স্বশরীরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তি আব্দুল খালিক বলেন, তিনি পরে এ বিষয়ে কথা বলবেন। এর চেয়ে বেশি কিছু না বলে তিনি ফোন কেটে দেন।
নির্যাতিতা জলিকা বেগমের স্বামী খোরশেদ মিয়া বলেন, জুলেকা বেগম আমার ১ম স্ত্রী ছিলেন। প্রায় ২০ বছর পূর্বে আমার স্ত্রী তাঁর বাবার বাড়িতে চলে যান৷ কিন্তু তার দেনমোহর বাবদ নগদ সাড়ে তিন লাখ টাকা তাঁর চাচাতো ভাই আব্দুল খালিকের কাছে দিয়েছিলাম তাকে ঠিকমত দেখাশুনা ও ভরপোষণের জন্য৷ কিন্তু তারা আমার স্ত্রীর দেনমোহরের টাকা ও সম্পদ আত্মসাৎ করে নানা অবহেলা ও মানসিক নির্যাতন করেছে৷ এখন আমার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেবার জন্য কয়েকদিন থেকে আমার শশুর বাড়ি এসেছি কিন্তু তার ভাই আব্দুল খালিক এতে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। প্রশাসনের সহযোগিতায় আমার স্ত্রীকে আবারও আমার বাড়িতে নিয়ে যেতে চাই।
এ ব্যাপারে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সৌমিত্র কর্মকার জানান, সরেজমিন তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। ইউএনও স্যারের কাছে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিবো। তিনি পরবর্তী ব্যবস্থা নিবেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মাহমুদুর রহমান খোন্দকার বলেন, নির্যাতিতা নারীর আবেদনের প্রেক্ষিতে দ্রুত তদন্ত করার জন্য উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে৷ ১৮ মে বৃহস্পতিবার তিনি সরেজমিন বিষয়টি তদন্ত করেছেন বলে জানিয়েছেন। প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে৷ তবে এখন যদি তিনি স্বামীর কাছে ফিরে যেতে চান তাহলে সেটির উদ্যোগ নেয়া হবে।
|




