সরকার আগুন নিয়ে খেলছে : মির্জা ফখরুল
বার্তালোক ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ এপ্রিল ২০২৩, ৩:০৩ মিনিটনিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার ‘মার্কেটে আগুন’ নিয়ে খেলা শুরু করেছে। তারা একদিকে বাজারে বাজারে আগুন নিচ্ছেন, অন্যদিকে সমস্ত ইচ্ছা-আশা-আকাঙ্ক্ষাগুলোকে আগুনে ঝালিয়ে দিচ্ছেন।
আজ সোমবার বিকালে এক ইফতার অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন। রাজারবাগে হোটেল হোয়াইট হাউজে গণতন্ত্র মঞ্চের উদ্যোগে রাজনীতিবিদের সম্মানে এই ইফতার মাহফিল হয়
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পুরো ব্যাপারটাই সাজানো, তৈরি করা। তৈরি করা নিয়ে এজন্য বললাম আজকে তারা আগুন নিয়ে খেলা শুরু করেছে। এই আগুন নিয়ে খেলা করে লাভ হবে না, আগুনে কিন্তু আপনারাই (ক্ষমতাসীনরা) সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
নিউ সুপার মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের দায় সিটি করপোরেশনের মন্তব্য করে করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিউ সুপার মার্কেটে আগুন লাগার পরে বললেন, এটাতে বিএনপি এবং জামায়াত জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে। অথচ সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীরা পরিষ্কার করে বলছেন, প্রত্যেকটি পত্রিকাতে এসেছে যে, ঢাকা সিটি করপোরেশনের লোকেরা এসেছিল ভোর সাড়ে ৫টার সময়ে। তাদের পরনে ছিল সিটি করপোরেশনের পোশাক। তারা ড্রিল মেশিন নিয়ে এসেছিল এবং যে ফুট ব্রিজটা ওখানে আছে তারা যখন ড্রিল দিয়ে সেটার সিঁড়ি ভাঙছিল, তখন আগুন লেগে যায়। তারা চেষ্টা করেছিল আগুন নেভানোর জন্য কিন্তু যখন আগুন ছড়িয়ে পড়ে তখন তারা পালিয়ে গেছে।’
‘আমরা এখন যে জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছি সেই জায়গায় আমাদের একটাই মাত্র পথ খোলা আছে’ উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সেই পথ হচ্ছে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনগণকে সংগঠিত করে এই ভয়াবহ দানবীয় সরকারকে সরিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা। আমরা আন্দোলন শুরু করেছি আমাদের সেই একাত্তর সালের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার জন্য। আমরা আন্দোলন শুরু করেছি আমাদের অধিকার, ভাতের অধিকার, ভোটের অধিকার, বেঁচে থাকার অধিকার ফিরে পাবার জন্য। একটি সুন্দর কল্যাণমূলক রাষ্ট্র নির্মাণ করার জন্য সেই আন্দোলন শুরু হয়েছে, সংগ্রাম শুরু হয়েছে।’
ফখরুল বলেন, ‘আমাদের সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে। আমাদের সবাইকে একজোট হয়ে যারা আমাদের সমস্ত স্বপ্নগুলোকে ভেঙে দিয়েছে, যারা আমাদের অর্জনগুলোকে ধ্বংস করেছে, তাদেরকে সরিয়ে সত্যিকার অর্থে জনগণের একটি সরকার, জনগণের একটি পার্লামেন্ট গঠন করতে হবে। আমরা সবাই একসাথে এক জোট হয়ে ১০ দফা কর্মসূচি দিয়েছি, আমরা রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলেছি। আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাধ্য করি এই সরকারকে ১০ দাবি মেনে নিতে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আজকে সেই আওয়ামী লীগ আছে কিনা জানি না, যেই আওয়ামী লীগ যুদ্ধের সময়ে একটা ইতিবাচক নেতৃত্বে মধ্যে দিয়ে চলছিল সেই আওয়ামী লীগের হাতেই আজকে মানুষের সমস্ত আশা-আকাঙ্ক্ষাগুলো ভেঙে চুরমার হয়েছে। সবচেয়ে বড় যে অপরাধটি আওয়ামী লীগের এই সরকার করেছে তা হলো, আমাদের সমস্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান তারা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দিয়েছে এবং এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেঙে দেওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে ব্যর্থ রাষ্ট্রের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগ পুরনো রাজনৈতিক দল, তারা এত রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার মধ্যে পড়েছে এটা আমরা ভাবতেও পারি না।’
‘তারা নির্বাচনের কথা বলছে, সংবিধানের কথা বলছে’ উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সংবিধান কারা পরিবর্তন করেছে, কিভাবে করেছে সেটা এদেশের সব মানুষ জানে। আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই এ দেশের মানুষ তারা তাদের অধিকার ফিরে পেতে চায়। ন্যূনতম যে অধিকার তারা ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচন করবে, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার গঠিত হবে।’
গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকির সভাপতিত্বে ও গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা রাশেদ খানের সঞ্চালনায় ইফতারপূর্ব আলোচনায় জেএসডির আসম আবদুর রব, বিএনপির আবদুল মঈন খান, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের মোস্তফা মোহসীন মন্টু, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, জাসদের নাজমুল হক প্রধান, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, গণদলের এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের হাসনাত কাইয়ুম, জাগপার খন্দকার লুতফুর রহমান, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বিকল্পধারা বাংলাদেশের অধ্যাপক নুরুল আমিন ব্যাপারী, পিপলস পার্টির আবদুল কাদের, প্রগতিশীল ন্যাপের পরশ ভাসানী, বক্তব্য দেন।
পরে বিএনপির বরকত উল্লাহ বুলু, জহির উদ্দিন স্বপন, শ্যামা ওবায়েদ, জাতীয় পার্টির আহসান হাবিব লিংকন, গণঅধিকার পরিষদের রেজা কিবরিয়া, নুরুল হক নূর, ভাসানী অনুসারী পরিষদের শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, জেএসডির শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, পিপলস পার্টির বাবুল সর্দার চাখারী, ন্যাপ ভাসানী আজহারুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে ইফতার করেন বিএনপি মহাসচিব।




