কুলাউড়ায় পুলিশের ওপর হামলা, ৫ নারী জেলহাজতে
বার্তালোক ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ মার্চ ২০২৪, ১১:৫৬ মিনিটকুলাউড়া প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ পাঁচ নারীকে গ্রেপ্তার করে ১৪ মার্চ দুপুরে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে। ৪ আসামী পলাতক রয়েছে। হামলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে কুলাউড়া থানার এসআই সালাউদ্দিন মিফতা বাদী হয়ে ৯ জনের নামোল্লেখ করে একটি পুলিশ এ্যাসল্ট মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো ৫-৭ জনকে আসামী করা হয়েছে। এরআগে কুলাউড়ার কাদিপুরে একটি ধর্ষণ চেষ্টা মামলার আসামি ধরতে গিয়ে আসামীর পরিবারের সদস্যদের হামলায় ৪ পুলিশ সদস্যসহ ৭ জন আহত হয়েছেন। গত বুধবার বিকেল ৫টায় উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মামলায় কাদিপুর ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের তারা মিয়ার স্ত্রী আছিয়া বেগম (৬০), এলাইছ মিয়ার স্ত্রী আজিজুন নেছা (৬০), মনা মিয়ার মেয়ে অপি বেগম (২২), প্রধান আসামী আজাদ মিয়ার স্ত্রী রত্না বেগম (৩৪), লাল মিয়ার মেয়ে মনি বেগম (২১) কে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে। এছাড়া পলাতক রয়েছেন হোসেনপুর গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে মামলার প্রধান আসামী আজাদ মিয়া (৪২), তার ভাই আহাদ মিয়া (৩৮, লাল মিয়ার স্ত্রী শিরি বেগম (৪৫), জয়নাল মিয়ার স্ত্রী রিপা বেগম (৩৫)।
জানা যায়, গত ৪ মার্চ উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নের হোসেনপুর এলাকার বাসিন্দা তারা মিয়ার ছেলে চিহ্নিত বখাটে আজাদ মিয়া (৪২) প্রতিবেশী এক গৃহবধুর সাথে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা ঘটায়। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার পরদিন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১২ মার্চ আজাদ মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়। বুধবার বিকেলে আসামী আজাদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে তার বাড়িতে কুলাউড়া থানার এসআই সালাউদ্দিন মিফতার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। এসময় আসামী আজাদকে আটকের চেষ্টাকালে আসামীর পরিবারের লোকজন পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তি শুরু করে পুলিশের ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালালে আসামী আজাদ মিয়া পালিয়ে যায়। হামলায় এসআই সালাউদ্দিন মিফতা (৩০), আনোয়ার মিয়া (৩৩), এ এস আই তপন দেব (৩৫) ও কনস্টেবল আফরোজ মিয়া (২৭), মামলার বাদী, তাঁর মাতা ও ছোট ভাই আহত হন। খবর পেয়ে থানা থেকে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করেন। ঘটনাস্থল থেকে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করা হয়। আহত পুলিশ সদস্যরা কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
মামলার বাদী এসআই সালাউদ্দিন মিফতা বলেন, ধর্ষণ চেষ্টা মামলার আসামী আজাদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করার সময়ে আসামীর পরিবারের লোকজন পুলিশের ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে পুলিশের চার সদস্য আহত হন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই দেবাশীষ তালুকদার বলেন, গ্রেপ্তার ৫জনকে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী মাহমুদ বলেন, এই ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে ৯ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক আসামীদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।




