কুলাউড়ায় অফিস সহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ
বার্তালোক ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ৮:০৭ মিনিটকুলাউড়া প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার গিয়াসনগর ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসায় অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১৩ ফেব্রুয়ারি অনিয়মের অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দেন ওই পদে আবেদনকারী জনি বেগম। যার অনুলিপি বিভিন্ন দপ্তরে দেয়া হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, উপজেলার জয়চন্ডি ইউনিয়নের গিয়াসনগর ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসায় উল্লেখিত পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ১১ ফেব্রুয়ারি। বেলা ২ টায় পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা শুরু হয় দুই ঘন্টা পর। এসময় উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ডিজি অফিসের প্রতিনিধি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, মাদ্রাসা সুপার এবং শিক্ষানুরাগী সদস্য। তবে ডিজি প্রতিনিধির সময় সল্পতা দেখিয়ে তড়িঘড়ি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেন শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার, মাদ্রাসা তৈয়ীবুর রহমান ও শিক্ষক আবুল খায়ের। তাছাড়া কম্পিউটারের ওপর ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। নিয়োগ বোর্ডের প্রধান নিজের নানা সমস্যা দেখিয়ে পরের দিন বোর্ড থেকে পরীক্ষার ফলাফল জেনে নেওয়ার কথা বলে দ্রুত চলে যান। ঘন্টাখানেক পর হঠাৎ ডিজি প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টরা ফিরে এসে আবু বক্কর নামের প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন বলে ঘোষণা দেন।
অভিযোগকারী জনি বেগম বলেন, ম্যানেজিং কমিটি ও মাদ্রাসার সুপারের ইশারায় আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ দেখানো হয়েছে। তাছাড়া কম্পিউটারের ব্যবহারিক পরীক্ষা নেয়া হয়নি। ব্যবহারিক পরীক্ষা নেয়া হলে আমি অবশ্যই উত্তীর্ণ হতাম। বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করলে সত্যতা বেরিয়ে আসবে।
মাদ্রাসা সুপার মাওলানা তৈয়ীবুর রহমান আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিয়মতান্ত্রিকভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে ডিজি অফিসের প্রতিনিধি আসতে দেরি হওয়ায় পরীক্ষায় একটু দেরি হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আনোয়ার বলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় সংশ্লিষ্ট সবার উপস্থিতিতে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নিয়োগ কার্য সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার দিন ওই প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার নষ্ট থাকায় সকল প্রার্থীকে কম্পিউটার ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ দেখানো হয়েছে। আর জনি বেগম নামে ওই প্রার্থী গণিত পরীক্ষা দেননি। যার কারণে অন্য সব বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে যিনি বেশি নাম্বার পেয়েছেন তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখানে কোন অনিয়ম হলে তদন্তে সেটি বের হয়ে আসবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহমুদুর রহমান খোন্দকার জানান, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




