কুলাউড়ায় শুভসংঘের উপহার পেয়ে খুশি চা শ্রমিক সন্তানরা
বার্তালোক ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ জানুয়ারি ২০২৩, ৬:৫৩ মিনিট
কুলাউড়া প্রতিনিধি : মৃধা অলমিক। সে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের সিরাজনগর চা-বাগানের শিক্ষাকেন্দ্রের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী। তবে তার দুই হাতের আঙ্গুল নেই। বড় কষ্টে পরিবারের সাথে দিনাতিপাত করে। সে জানায়, তার একটাই মাত্র গরম কাপড় আছে। যেটা দিয়ে কোনভাবেই শীত নিবারণ করতে পারে না। মাঝে মাঝে মায়ের চাদরটা জোর করে নিয়ে নেয়। কিন্তু মায়ের গরম কাপড় নেই। তাই মায়ের চাদরটাও বেশি সময় গায়ে দিতে পারে না। অভাবের কারণে দিন আনতে পান্তা ফুরায় তাই বাবাকেও গরম কাপড় কিনে আনতে বললেও তিনি আনেননি। কিন্তু মৃধা জানায়, আজ তার খুব আনন্দের দিন। কারণ সে সুন্দর গরম কাপড় পেয়েছে। এই শীতে তার আর চিন্তা নেই। আজ তার খুশিরও অন্ত নেই। এবং বাবাকেও আর বলতে হবে না গরম কাপড় কিনে দেয়ার জন্য।
একই কথা জানায় ছোট্ট শিশু সন্তোষ রবিদাস। সে জানায়, আগে ঠান্ডার কারণে ও বেশি কুয়াশা থাকায় স্কুলে যেতাম না। এখন গরম কাপড় পেয়েছি। এই কাপড় পড়ে সুন্দরমত হাত মুখ ধুয়ে পরিচ্ছন্ন হয়ে স্কুলে যাবো। একই এলাকার চা-শ্রমিক সন্তান রাজেশ পাষী পড়ে অষ্টম শ্রেণীতে। সে গরম কাপড় পেয়ে বাবা-মা কে দেখানোর জন্য দ্রুত বাড়িতে গেছে। সে জানায়, সামর্থ্য না থাকায় তার কোন শীতের কাপড়ই ছিলো না। অন্যদিকে অভাবের কারণে বাবা-মার কাছে আবদারও করতে পারতো না। কিন্তু হঠাৎ গরম কাপড় পাবে সে কল্পনাও করতে পারেনি। শীতের কাপড় পেয়ে সে হতবাক হয়ে যায়। প্রায় অর্ধ শতাধিক চা-শ্রমিক সন্তানরা এরকমই কথা বলে। অনেকে আবেগ আপ্লুত হয়ে হাঁসিতে মেতে উঠে।
গত ২৩ জানুয়ারি বিকেলে দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকার পাঠক সংগঠন শুভসংঘ কুলাউড়া উপজেলা শাখার উদ্যোগে উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের সিরাজনগর চা-বাগানের সুবিধাবঞ্চিত চা-শ্রমিক সন্তানদের শীতে উষ্ণতার পরশ দিতে উপহার হিসেবে শীতবস্ত্র (জ্যাকেট-হুডি) দেওয়ার সময় এরকম মন্তব্য পাওয়া যায়। এসময় আরো দশজন চা-শ্রমিক নারী-পুরুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়। শীতের কাপড় পেয়ে মুখে হাসি ফুটেছে তাদের।
শুভসংঘের উপজেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম মামুনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মহি উদ্দিন রিপনের পরিচালনায় শীতবস্ত্র বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আব্দুছ ছালেক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ব্রাহ্মণবাজার ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক মোঃ মমদুদ হোসেন, সিরাজনগর চা-বাগানের ব্যবস্থাপক শামীম আহমদ চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক বিমলেন্দু সেন কৃষ্ণ, ডেইলী স্টারের নিজস্ব প্রতিবেদক মিন্টু দেশোয়ারা, আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি এস আলম সুমন, কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি ও শুভসংঘের উপদেষ্ঠা মাহফুজ শাকিল প্রমুখ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন শুভসংঘের সহ-সভাপতি আবুল কাশেম উসমানী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনজুরে এলাহী বশির আল ফেরদাউস,সাংগঠনিক সম্পাদক আজহার মুনিম শাফিন, প্রচার সম্পাদক মিফতা আহমদ রাফি, নারী বিষয়ক সম্পাদক সাদিয়া জাহান, সহ সাহিত্য ও সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক সানজিদা বিন ইসলাম, শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক সামিয়া জাহানসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ব্রাহ্মণবাজার ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মমদুদ হোসেন বলেন, কালের কণ্ঠ শুভসংঘ যেভাবে মানবতার কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে তা প্রশংসার দাবি রাখে। আমার ইউনিয়নের চা-বাগানে এসে শুভসংঘের বন্ধুরা যে শীতবস্ত্র বিতরণ করে শ্রমিক সন্তানদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে তা আসলে মানবতার বহিঃপ্রকাশ। শুভসংঘের কার্যক্রম কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ রাখবে চা জনগোষ্ঠীর লোক। এই শীতে এমন কার্যক্রম অব্যাহত থাকুক এটা কামনা করি।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুছ ছালেক বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আর্ত মানবতার সেবায় দেশ ও জাতির কল্যাণে কালের কণ্ঠ যেভাবে কাজ করছে সেটি অত্যন্ত প্রশংসার দাবি রাখে। কালের কণ্ঠ শুভসংঘ সমাজের তৃণমূল ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের খোঁজে বের করে তাদের পাশে সকল ধরণের সহযোগিতার হাত প্রসারিত রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় শুভসংঘের বন্ধুরা চা বাগানের ছোট্ট শিশুদের শীতে উষ্ণতার পরশ দিতে শীতবস্ত্র উপহার দিচ্ছে। শুভসংঘের এ ধরণের আয়োজন অন্যান্য সংগঠনদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।




