কর্মধায় চুরির অপবাদ সইতে না পেরে তরুণের আত্মহত্যা
বার্তালোক ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৫:৫০ মিনিট
কুলাউড়া প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে মারপিট করায় অপমান সহ্য করতে না পেরে মুজাহিদুর রহমান সায়ান (২২) নামক এক তরুণ গলাস ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের পূর্ব ফটিগুলি গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। নিহত তরুণ সায়ান ফটিগুলি গ্রামের বাসিন্দা মো. ইরা মিয়ার ছেলে। পরে খবর পেয়ে থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) সুজন তালুকদার ও মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন।
নিহতের পরিবার, স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত ১০টার দিকে কর্মধা ইউনিয়নের পূর্ব ফটিগুলি গ্রামের স্থানীয় বাজারের ছুফি মিয়ার দোকানে মোবাইলের রিচার্জ কার্ড কিনতে যান সায়ান। ওইসময় স্থানীয় বাসিন্দা আওয়ামীলীগ নেতা বাবুল মিয়া নামের এক ব্যক্তির মোবাইল চুরি হয়। তখন বাবুলসহ কয়েকজন সন্দেহ করে ওই মোবাইল ফোন নাকি সায়ান চুরি করেছে। অথচও ওই দোকানে বাবুল মিয়াসহ আরও কয়েকজন ক্রেতা ছিলেন। সেই চুরির সন্দেহে বাবুল মিয়া ও বাদশা মিয়া সায়ানকে অভিযুক্ত করে মারধর করে তার পরিবারকে খবর দেন। তখন সায়ানের মা মিনারা বেগম এলাকার মুরব্বীদের সাথে নিয়ে সায়ানকে দোকান থেকে নিয়ে আসেন। অথচও ঘটনার দিন রাতে ওই দোকানের পাশে একটি গাছ তলার নিচে মোবাইল ফোনটি পাওয়া যায়। কিন্তু মারধরের শিকার হয়ে রাতে বাড়িতে গেলেও সায়ান মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং অপমানিত বোধ করে। সকাল দশটার দিকে সায়ানের মা মিনারা বেগম ছেলে সায়ানকে বাড়িতে রেখে স্থানীয় ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল মতিনের বাড়িতে যান। এই ফাঁকে সায়ান ঘরের তীরের সাথে গলার মাফলার দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে বাবুল মিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম ফোন রিসিভ করে বলেন, আমার স্বামী পানপুঞ্জিতে কাজে রয়েছেন। ঘটনার দিন সন্ধার পর ছুফি মিয়ার দোকানে খরচ আনতে আমার স্বামী যান। ওই সময় সায়ানও ওই দোকানে ছিল। আমার স্বামী তার মোবাইল ফোনটি দোকানের বয়ামের উপরে রাখেন। খরচ কেনা শেষ হলে দোকান মালিক ছুফি মিয়ার ছেলে রাজু যখন দোকান বন্ধ করে তখন আমার স্বামী বলেন আমার মোবাইলটি দোকানে রয়েছে। তখন রাজু জানায় মোবাইল দোকানে নেই। তখন আমার স্বামী ও তার সহযোগী বাদশা মিয়াসহ স্থানীয়রা দেখেন সায়ান মোবাইল চুরি করে একটি গাছের নিচে রেখেছে। তখন চুরির ঘটনায় সায়ানকে বাদশা কয়েকটি চড়-থাপ্পড় মাড়েন। পরে স্থানীয় মেম্বারসহ গনমান্যব্যক্তির উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা হলে সায়ানের মা তাকে জিম্মায় নেন।
স্থানীয় কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার আব্দুল মতিন জানান, মোবাইল চুরির সন্দেহে এলাকার যুবক সায়ানকে বাবুল ও বাদশা মারধর করেছেন সেটা সায়ানের মা ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। অথচও ঘটনার দিন রাতে ছুফি মিয়ার দোকানের পাশে একটি গাছের নিচে মোবাইল ফোনটি পাওয়া যায়। অহেতুক চুরির সন্দেহে সহজ-সরল যুবক সায়ানকে এভাবে মারধর করা ঠিক হয়নি তাদের।
কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. গোলাম আপছার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। লাশের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন আছে।




