কলেজ ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় বিআরডিবি’র সাবেক চেয়ারম্যান মুহিবুর কারাগারে
বার্তালোক ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ১৩ জুন ২০২৩, ৮:৪৮ মিনিট
স্টাফ রিপোর্টার : মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা বিআরডিবি’র সাবেক চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমানকে ধর্ষণ মামলায় কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জুন) মৌলভীবাজার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (৫নং আমলী) একটি ধর্ষণ মামলায় জামিন নিতে গেলে বিজ্ঞ আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলা ও ভিকটিমের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ হিঙ্গাজিয়া (তামারপাড়া) গ্রামের মৃত সাজিদ মিয়ার পুত্র কুলাউড়া উপজেলা বিআরডিবির সাবেক চেয়ারম্যান ও ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক মুহিবুর রহমানের বিরুদ্ধে একই এলাকার এক কলেজ ছাত্রী (২৬) কে প্রেম নিবেদন করে উত্যক্ত করে আসছেন। কিন্ত মুহিবুর রহমান ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ও তাঁর স্ত্রী সন্তান থাকায় ওই ছাত্রী প্রেমের প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে। পরে মুহিবুর ওই ছাত্রীকে বিয়ে করবেন বলে প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে একাধিকবার শারিরীক সম্পর্কে লিপ্ত হন। একপর্যায়ে কলেজ ছাত্রী তাকে বিয়ের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন থেকে চাপ প্রয়োগ করলে মুহিবুর নানা টালবাহানা শুরু করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে কলেজ ছাত্রী গত ২৯ মে দুপুরে মুহিবুরকে স্থানীয় বাজারে পেয়ে তাঁর বিয়ের স্বীকৃতি প্রদানের জন্য জোর দাবী জানায়। এসময় মুহিবুর ও তাঁর পরিবারের লোকজন কলেজ ছাত্রীকে বেঁধড়ক পিঠিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে নির্যাতিতা কলেজ ছাত্রী মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারে চিকিৎসা নেন। পরে ৩১ মে কুলাউড়া থানায় মুহিবুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেন। পর দিন ১ জুন বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালতে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের অভিযোগ এনে তাঁর বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।
নির্যাতিতা ওই কলেজ ছাত্রীকে মারধর করার অভিযোগে কুলাউড়া থানা পুলিশ সোমবার (১২ জুন) মুহিবুর রহমানের বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে তাঁর ভাতিজা মোকাদিছুর রহমান রানা (২২) নামে একজনকে আটক করে। এদিকে পলাতক থাকা মুহিবুর রহমান মঙ্গলবার (১৩ জুন) মৌলভীবাজার আদালতে জামিন নিতে গেলে চিফ জুডিশিয়াল (৫নং আমলী) আদালতের বিজ্ঞ বিচারক দাউদ হাসান তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আব্দুছ ছালেক বলেন, কলেজ ছাত্রী মুহিবুর রহমানকে অভিযুক্ত করে থানায় ধর্ষণের মামলা করেছেন। এই মামলায় মুহিবুর আদালতে জামিন নিতে গেলে আদালত তাঁর জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেন এবং ভিকটিমকে মারধর করায় মুহিবুরের ভাতিজাকেও আটক করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।
উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাজারের দরিদ্র পরিবারের ওই কলেজ ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় কুলাউড়াসহ পুরো মৌলভীবাজার জেলায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।




