ইউটিউব দেখে ডাহুক পাখি শিকার, তরুণকে জরিমানা
বার্তালোক ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ০৬ মে ২০২৩, ৫:৫০ মিনিটকুলাউড়া প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মোবাইল ইউটিউবে পাখি শিকারের কৌশল দেখেন দুই তরুণ। সেই কৌশল দেখে খাঁচায় আগে শিকার করা একটি ডাহুক পাখি বেঁধে রেখে আর ইউটিউব থেকে ডাহুক পাখির শব্দ ডাউনলোড করে সেটা মোবাইল ফোনে বাজিয়ে শুনিয়ে ১০টি ডাহুক পাখি শিকার করেন আসাবুদ্দিন (২০) ও ওয়ারিছ আলী (১৭)। ঘটনাটি উপজেলার কর্মধা এলাকার।
শনিবার (৬ মে) কর্মধা ইউনিয়নের ফানাই নদী এলাকা থেকে ওই দুই তরুণকে স্থানীয় বনবিট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আটক করে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে পাখিগুলো অবমুক্ত করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্টেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান।
সকালে উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের ফানাই নদী এলাকা থেকে ওই দুই তরুণকে আটক করেছে স্থানীয় বনবিভাগ। পরে দুপুরে বনবিভাগের নলডরী বিট কার্যালয়ে এক
ভ্রাম্যমান আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের দিগলকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মোঃ নুর মিয়ার ছেলে মোঃ আসাবুদ্দিনও একই এলাকার বাসিন্দা মো. তাহির আলীর ছেলে মো. ওয়ারিছ আলী (১৭) ইউটিউবে পাখি শিকারের কৌশল দেখে ডাহুক পাখি শিকারের জন্য স্থানীয় ফানাই নদীতে ফাঁদ পাতেন। এসময় নদীর তীরে আগে থেকে শিকার করা ১টি ডাহুক পাখি খাঁচার ভেতর রেখে ও মোবাইলে ডাহুক পাখির ডাক (শব্দ) বাজিয়ে ওই খাঁচার পাশে রাখেন। মোবাইলে ডাক শুনে একে একে ১০টি ডাহুক পাখি তাদের ফাঁদে এসে ধরা দেয়। পরে শিকার করা পাখিগুলো বিক্রির উদ্দেশ্য নিয়ে যাওয়ার সময় বনবিভাগের নলডরী বিট কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান দুই তরুণ আসাবুদ্দিন ও ওয়ারিছকে আটক করেন। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসানকে অবগত করেন। খবর পেয়ে মো. মেহেদী হাসান নলডরী বিট কার্যালয়ে গিয়ে আসাবুদ্দিনকে ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড এবং বয়স বিবেচনায় ওয়ারিছ আলীকে জরিমানা না করে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ আব্দুল মতিনের জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেন।
পাখি শিকারী দুই তরুণ আসাবুদ্দিন ও ওয়ারিছ বলেন, পাখি শিকার করা দন্ডনীয় অপরাধ সেটা আমরা জানতাম না। ইউটিউব থেকে মোবাইল ফোনে ডাহুক পাখি শিকার দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ও ডাহুক পাখির ডাক ডাউনলোড করে মোবাইলে পাখির শব্দ বাজিয়ে শিকার করেছিলাম।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মেহেদী হাসান বলেন, বন্যপ্রাণী আইনে আসাবুদ্দিনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় ওয়ারিছ আলীকে স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয় ।




