কীর্তিমান হাজী আকবর খাঁনের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত
বার্তালোক ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ৮:০০ মিনিটহাজী মোঃ আকবর খাঁন (কুঠন খাঁন) কুলাউড়া উপজেলার ভূকশিমইল ইউনিয়নের জাবদা গ্রামে সম্ভ্রান্ত খাঁন পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা হুসন খাঁন ছিলেন সমাজ সেবক, সালিশকারী ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য। হাজী মোঃ আকবর খাঁন রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক, ব্যবসায়ী, শিক্ষানুরাগী,জনদরদী ও সালিশকারী কুঠন খাঁ নামে সর্বত্র পরিচিত ও সুখ্যাত। তিনি গত ১৩ ফেব্রুয়ারী সোমবার ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে বয়স ছিল ৯৫ বছর। মানুষের উপকার করার নামই জনসেবা, এই আদর্শ নিয়ে সারা জীবন হাজী মোঃ আকবর খাঁন জনগণের সেবা করে গেছেন । এই মহৎ গুণের অধিকারী হওয়ায় তাকে বিশিষ্ট সমাজ সেবক বলা হতো। প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষের শিক্ষা, বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট এবং হাট-বাজার নির্মাণের মাধ্যমে এ অঞ্চলকে আদর্শ সমাজ গঠনের স্বপ্নে নিজেকে সর্বদা সক্রিয় রাখতেন।
নবাবগঞ্জ বাজার থেকে রসুলগঞ্জ বাজার স্থাপনে প্রধান ভূমিকায় ছিলেন হাজী মোঃ আকবর খাঁন এই ইতিহাস বাদেভূকশিমইল, শশারকান্দি, জাব্দা, মুক্তাজিপুর এবং কালেসারসহ অত্র অঞ্চলের মানুষের জানা।
বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপনে স্থান নির্ধারন নিয়ে মত পার্থক্য দেখা দিলে হাজী মোঃ আকবর খাঁন (কুঠন খাঁ) জাব্দা মুক্তাজিপুর ও কালেসারের জনগণকে সাথে নিয়ে নবীগঞ্জ বাজার এবং নবীগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। তৎকালিন বানিজ্য সচিব জনাব মোফাজ্জল করিমের মাধ্যমে কানেহাত হইতে নবীগঞ্জ বাজার পর্যন্ত রাস্তা নির্মান করে এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সুগম করে দেন। বিদ্যুৎ বোর্ডের মেম্বার ফাইন্যান্স জনাব মনির উদ্দিনের মাধ্যমে অত্র অঞ্চলকে বিদ্যুতের আওতায় নিয়ে আসতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। পরোপকারের মহান উদ্দেশ্য নিয়ে এ অঞ্চলকে একটি মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে তোলাই ছিল তাঁর জীবনের লক্ষ। শত বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে রাস্তাঘাট, হাট-বাজার, বিদ্যুৎ এবং বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অত্র অঞ্চলকে আলোকিত করে আদর্শ সমাজ গঠনের পথ সুগম করে তুলেন। আল্লাহতায়ালা দ্বিনের এই খাদেমকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করেন। আমিন ॥
মৃত্যুর পূর্বে ৬ ছেলে, ৫ মেয়ে, নাতি নাতনীসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন ।
১ম ছেলে মোঃ জয়নাল আবেদীন খাঁন রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ এবং ব্যবসায়ী, জয়নাল আবেদীন খাঁনের মেয়ে তানজিনা জাহান খাঁন চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ বর্ষে পরীক্ষারত। জয়নাল আবেদীন খাঁনের ১ম ছেলে ইয়াসির আরাফাত খাঁন রাহাত সিলেট পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালে এসএসসিতে জিপিএ ৫ এবং ২০১৯ সালে সিলেট এম সি কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ গোল্ডেন ৫ অর্জন করে বর্তমানে বুয়েটে ক্যামিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং তৃতীয় বর্ষে অধ্যায়নরত । জয়নাল আবেদীন খাঁনের ২য় ছেলে তাহসিন আরাফাত খাঁন রিফাত উচ্চ শিক্ষা অর্জনে ইংল্যন্ডে অধ্যায়নরত।
২য় ছেলে- আব্দুর রহমান খাঁনের ১ম ছেলে তাজওয়ার রহমান খাঁন উচ্চ শিক্ষা অর্জনে ইংল্যান্ডে অধ্যায়নরত। আব্দুর রহমান খাঁনের ২য় ছেলে মোঃ তামজিদুর রহমান খাঁন সিলেট ব্লু-বার্ড স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এস এস সি ২০২০ সালে জিপিএ গোল্ডেন ৫ এবং সিলেট এমসি কলেজ থেকে এইচএসসি ২০২২ গোল্ডেন জিপিএ ৫ অর্জন করেছে। সে ভবিষ্যতে ডাক্তার হতে চায়। ৩য় ছেলে মোঃ সালামত খাঁন । ৪র্থ ছেলে মোঃ আব্দুল জাব্বার খাঁন (প্রবাসি)। ৫ম ছেলে মোঃ জমশেদ খাঁন কুলাউড়া সরকারি কলেজে অর্থনীতি বিষয়ের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত এবং জমশেদ খাঁনের স্ত্রী জেসমিন ফাতেমা মনসুরগঞ্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। ৬ষ্ঠ ছেলে মোঃ মুছা খাঁন ব্যবসা বাণিজ্যের সাথে সম্পৃক্ত।




