কুলাউড়ায় কৃষি জমিতে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চারা রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক
বার্তালোক ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ৮:০৬ মিনিট
জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার ঃ মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশিত ‘এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি রাখা যাবে না’ এমন ঘোষণার পর মৌলভীবাজারে কৃষিতে সামাজিক আন্দোলন শুরু করা হয়েছিল কুলাউড়া উপজেলা থেকে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ প্রথমবারের মতো কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের গুতগুতি গ্রামের অনাবাদি ৫০ একর জমি বোরো ধানের সমলয় চাষাবাদ এর আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। বর্তমানে সময়ে সরকারের বিভিন্ন সেক্টরে বরাদ্দ কমলেও কৃষিতে কোন বরাদ্দ কমেনি। কৃষকদের জন্য সবধরণের সুযোগ-সুবিধা তৈরি করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সবসময় কৃষকদের নিয়ে চিন্তা করেন। তিনি সবসময় কৃষকদের পাশে আছেন এবং তিনি কৃষকদের সবসময় ভালো চান। তিনি কৃষকদের বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে উৎসাহিত করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের পতিত জমিগুলোতে কৃষি ফলনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণের জন্য সরকার কৃষকদের যাবতীয় সহযোগিতা করছে। তাই অনাবাদি পতিত জমি আবাদের আওতায় নিয়ে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন, চারা রোপণ, ধান কর্তন করে কৃষিতে শতভাগ সাফল্য অর্জন করতে হবে। কৃষকদের দাবির প্রেক্ষিতে কুলাউড়ার ফানাই নদীতে সেচ সুবিধার্থে একটি সুইসগেট নির্মাণের আশ্বাস প্রদান করেন তিনি।
সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুলাউড়া উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলার কুলাউড়া ইউনিয়নের গুতগুতি এলাকায় আয়োজিত ‘রবি মৌসুমে বোরো ধানের সমলয় চাষাবাদের’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুর রহমান খোন্দকারের সভাপতিত্বে ও কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. বিল্লাল হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোমিন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সামছুদ্দিন আহমদ, কুলাউড়া সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোছাদ্দিক আহমদ নোমান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সম্পাদক আব্দুল আজিজ, কৃষক রজব আলী। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক নিলুফার ইয়াসমিন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিঠুন সরকার, কুলাউড়া প্রেসক্লাব সভাপতি এম শাকিল রশীদ চৌধুরী, প্রেসক্লাব কুলাউড়ার সভাপতি আজিজুল ইসলাম প্রমুখ। পরে জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান কৃষি জমিতে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চারা রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কুলাউড়া উপজেলার গুতগুতি গ্রামের আউশ আমনের পতিত জমিগুলো প্রথমবারের মতো পাশ^বর্তী ফানাই নদী থেকে পানি সংগ্রহ করে ৬০-৭০ জন কৃষক প্রায় ৫০ একর জমিতে সীড শোয়িং মেশিনের মাধ্যমে ট্রেতে বোরো ধানের বীজ রোপণ করা হয়। উক্ত বীজগুলো থেকে উৎপাদিত চারা রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনের মাধ্যমে তৈরিকৃত জমিতে রোপণ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে কৃষি বিভাগের সহায়তায় কম্বাইন্ড হানভেস্টার মেশিনের মাধ্যমে ধান কাটা হবে।




