নির্বাচিত হলে ৬ মাসের মধ্যে মেডিকেল কলেজ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করবো- নৌকার প্রার্থী জিল্লুর রহমান
বার্তালোক ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ জানুয়ারি ২০২৪, ৬:৪২ মিনিট
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :
মৌলভীবাজার-৩ আসনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান। তিনি এবার প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়ে মৌলভীবাজার জেলায় চমক সৃষ্টি করেছেন। এ আসনে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন বর্তমান এমপি ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ নেছার আহমদ। তিনি নৌকার মনোনয়ন না পাওয়ায় জেলা আওয়ামীলীগের একটা অংশ সরাসরি জিল্লুর রহমানের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় কাজ করছেন। তারা নৌকাকে বিজয়ী করতে দিনরাত ভোটের মাঠে সরব রয়েছেন।
ইতিমধ্যে নৌকার প্রার্থী মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান মৌলভীবাজারে মেডিকেল কলেজ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মৌলভীবাজার ও রাজনগরের আন্ত:মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরন, মৌলভীবাজার শহর বাইপাস ও নতুন মনু সেতু, কাউয়াদিঘি হাওরের উন্নয়ন, মনু নদীর ভাঙ্গন থেকে রক্ষাসহ বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এসকল প্রতিশ্রুতি পেয়ে খুশি ভোটাররাও।
এবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পাওয়ার পরই মনস্থির করেন যে, মৌলভীবাজার-৩ আসনের মানুষের আকাঙ্খার চেয়ে বেশি উন্নয়ন করবেন। তাই নেমে গেলেন ভোটের মাঠে। মৌলভীবাজার সদর উপজেলা ও রাজনগর উপজেলা ২০ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে নিজের টিম পাঠিয়ে মানুষের কথা শুনেছেন। তৈরী করেছেন উন্নয়ন পরিকল্পনা। এখন যে ইউনিয়নেই যান নির্বাচনী সভা শুরু করেন উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে। এ যেন চাওয়ার আগেই পাওয়া। মানুষের দাবির আগেই তিনি বলে দেন কোন ওয়ার্ডে কি কি প্রয়োজন। এতে আনন্দের জোয়ার বইছে মৌলভীবাজার-৩ আসনে। সর্বস্থরের মানুষের দল মত নির্বিশেষে এখন মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের জন্য কাজ করছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিক বরাদ্দের পর এখন পর্যন্ত নির্বাচনী আসনের ৯৫ শতাংশ এলাকায় তিনি গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও জনসভা করেছেন। দীর্ঘদিন পর একজন পরিচ্ছন্ন মানুষকে প্রার্থী দেখে আনন্দে জোয়ার বইছে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও।
মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মুহিবুর রহমান তরফদার বলেন, আমাদের নেত্রী বুঝে শুনেই মনোনয়ন দিয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি নেত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। এর বাহিরে যাওয়ার সুযোগ নেই। মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান একজন তরুণ, তিনি চাইলে সকল অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারবেন। তাই আমি মৌলভীবাজার ও রাজনগরবাসীর কাছে আহ্বান জানাই যেন তাকে আমরা সংসদে পাঠাতে চাই।
সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুর রহমান বাবুল বলেন, আমাদের এই আসন দীর্ঘদিন উন্নয়ন বঞ্চিত ছিল। যাই বরাদ্দ আসতো সব পকেটে চলে যেতো। কিন্তু আমাদের নেত্রী এমন একজন মানুষকে প্রার্থী করেছেন যার লুটপাটের চিন্তা নেই। আমি অবাক হয়েছি, উনার উন্নয়ন এর চিন্তাধারা দেখে।
মৌলভীবাজার-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসিন বলেন, আমার স্বামী প্রয়াত সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী এই আসনের এমপি ছিলেন। কিন্তু উনি উনার দায়িত্ব শেষ হওয়ার আগেই চলে গেছেন। জিল্লুর রহমানকে মহসিন আলী ছেলে মতো দেখতেন। আমরা চাই আমাদের কৃতি সন্তান জিল্লুর রহমান এমপি হয়ে মহসিন আলী অসম্পূর্ণ সকল কাজ করাক। তাই এখন প্রয়োজন আগামী ৭ জানুয়ারি ভোট কেন্দ্রে গিয়ে জিল্লুর রহমানকে সংসদে পাঠানো।
খলিলুর এলাকার ভোটার রহিম মিয়া বলেন, আমার দেখা মতে তিনি একজন ভাল মানুষ। তিনি প্রথম যেদিন শেরপুরে এসে বক্তব্য দেন সেদিন ই আমি ঠিক করি উনাকে ভোট দিব।
মহলাল এলাকার ভোটার ইমরান বলেন, তিনি আমাদের এলাকার কৃতি সন্তান হিসেবে সংসদে দেখতে চাই। আমরা উন্নয়ন চাই। আমি মনে করি জিল্লুর রহমান আমাদের এলাকায় উন্নয়ন করতে পারবেন।
রাজনগরের চা শ্রমিক সিতে রাম বলেন, আমি উনার কাছে কিছু বলি নাই। কিন্তু জিল্লুর রহমান আমাদের সব অসুবিধার কথা জানেন। আমরা মনের মতো
মৌলভীবাজার ৩ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান বলেন, আমাদের একটা টিম গত তিনমাস মৌলভীবাজার ও রাজনগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে খোঁজ নিয়েছে কার কি লাগবে। আমরা সেইভাবেই উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েছি। মৌলভীবাজার-৩ কে দেশের অন্যতম স্মার্ট এলাকা হিসেবে গড়তে চাই। আমি নির্বাচিত হলে ৬ মাসের মধ্যে মেডিকেল কলেজ, পাবলিক বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করবো। এছাড়া আমি একটি মহাপরিকল্পনা নিয়েছি। সেই লক্ষ্যেই কাজ করবো। উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমি কোন দলমত দেখবো না। আমার একটা অফিস থাকবে সেখানে সবশ্রেণীর মানুষ নির্দিধায় যেতে পারবে।
মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান ১৯৭৮ সালে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের সম্ভ্রান্ত জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা কামারচাক ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত আব্দুল মছব্বির। তিনি বাংলাদেশের অন্যতম কাঁচ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অলিলা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান যুক্তরাজ্যের সিআইএস থেকে এমবিএ, বিএসসি ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেছেন। খুব কম সময়ে নিজের দক্ষতায় বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য তরুণ উদ্যোক্তা হয়ে উঠেন। দীর্ঘ পাঁচ বছর কাজ করেছেন বিশ্ব ব্যাংকের নগর ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগের কর্মকর্তা হিসেবে। মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান আবাহনী সমর্থক ফোরামের চেয়ারম্যান, প্রতিভা বিকাশ বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান, শেখ রাসেল ইনডোর স্টেডিয়ামের প্রতিষ্ঠাতা, আব্দুল মছব্বির ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা। বাংলাদেশ ব্লাইন্ড ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক। এছাড়া তিনি গোপালগঞ্জ চন্দ্র দিঘলিয়ার রাবেয়া আলী গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য ও মৌলভীবাজারের রাজনগরের তারাপাশা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি। তিনি আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয়ক এবং অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ সমূহ- গ্রন্থের পৃষ্ঠপোষক ও প্রকাশক। জিল্লুর রহমানের ভাই রাজনগরের কামারচাক ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আতাউর রহমান। আরেক ভাই জিয়াউর রহমান মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের সদস্য।




