বন রক্ষায় ব্রিটিশ আমলের আইন পরিবর্তন হচ্ছে- কুলাউড়ায় পরিবেশমন্ত্রী
বার্তালোক ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ৬:৪১ মিনিটকুলাউড়ায় আধুনিক রেঞ্জ অফিস ভবনের উদ্বোধন
বিশেষ প্রতিনিধি : পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন এমপি বলেছেন, দেশে বর্তমানে দুই লক্ষ একরের উপরে বনভূমি বেদখলে আছে। সেই অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে আমরা বনভূমি উদ্ধারের চেষ্টা করছি। বর্তমানে বনের যে আইন আছে সেটা ১৯২৭ সালের বৃটিশদের করা। সেই আইন প্রয়োগ করে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা যাচ্ছেনা। আমরা বনের নতুন আইন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছি। আগামী সংসদে সেই আইন উপস্থাপন করা হবে। আইনটি পাস হলে সকল ধারার (৪ ধারা, ৬ ধারা, ২০ ধারা) বনভূমির সকল সমস্যা নিরসন হবে। শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুলাউড়ার গাজীপুরে রেঞ্জ অফিসের আধুনিক ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
পরিবেশ মন্ত্রী আরো বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনেকেই বনের জমি দখল করে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, হাটবাজার, কলকারখানা তৈরি করেছেন। সেটা দেখে মনে হয় বনের কোন মালিকানা নেই। সেই কারণে বেদখল করে আজকে যে অবস্থায় বন আছে সেই অবস্থায় রাখলে আমাদের জলবায়ু পরিবর্তনে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। যার কারণে দেশ ও আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। সরকারের এসডিজি বাস্তবায়নে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা হলো ২৪ শতাংশ বন থাকতে হবে। বর্তমানে সরকারি বন রয়েছে ১৪.১ শতাংশ। আগামী ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে বনকে ২৪ শতাংশে উন্নীত করা হবে। আর সামাজিক বনায়নে বাড়ি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মিলে মোট ২২ শতাংশ বনায়ন রয়েছে। বনায়ন বৃদ্ধি করার জন্য সিলেট বিভাগে সুফল প্রকল্পের আওতায় ৭৫ কোটি টাকার কাজ চলমান আছে।
মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা করতে হলে বেশি করে গাছ লাগাতে হবে। অবাধে গাছ কাটা বন্ধ রাখতে হবে। আমাদের স্বার্থে বনকে রক্ষা করতে হবে। কারণ গাছ আমাদের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন দিচ্ছে। বনই পারে একমাত্র জলবায়ু পরিবর্তনকে সুরক্ষিত রাখতে।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের করা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, হাকালুকি হাওরকে হাওর উন্নয়ন বোর্ডে অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে এবং উন্নয়ন কর্মকান্ড চলমান আছে। উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মাধবুকন্ড থেকে যে খাল হাওর পর্যন্ত গেছে সেটির খনন কাজ চলছে এবং হাওর এলাকায় ৩টি বিল, ১৮টি পুকুর খনন করা হচ্ছে। জুড়ী নদী রক্ষায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন কাজ চলমান আছে। হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকারের সময় বুড়িকিয়ারী বাঁধ তৈরি করা হয়েছিল। আমাদের আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কুশিয়ারা নদীর সাথে হাওরের সরাসরি যে সংযোগ খাল ছিল সেটি খনন করে দিয়েছি। এখন হাওরের পানি সরাসরি কুশিয়ারায় চলে যায়। হাওরে পানি এখন আর আটকায় না।
তিনি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ে আলোচনা করে আরো বলেন, জুড়ীর লাঠিটিলায় বঙ্গবন্ধুর নামে ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সাফারি পার্ক হচ্ছে। বর্তমানে সেটি বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পথে রয়েছে। এছাড়া মাধবকুন্ড ইকোপার্কে ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ক্যাবল কার নির্মাণ প্রকল্পটি একনেক সভায় পাস হলে অচিরেই কাজ শুরু হবে।
কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুর রহমান খোন্দকারের সভাপতিত্বে ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল হোসেনের পরিচালনায় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ তৌফিকুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রেণু, সাধারণ সম্পাদক আসম কামরুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন কুলাউড়া পৌরসভার মেয়র সিপার উদ্দিন আহমদ, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেহা ফেরদৌস চৌধুরী পপি, জুড়ী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রিংকু রঞ্জন দাস, সহকারী বন সংরক্ষক (শ্রীমঙ্গল) মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক, কুলাউড়া থানার ওসি মোঃ আব্দুছ ছালেক, কুলাউড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ রিয়াজ উদ্দিন, জুড়ী রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ আলাউদ্দিন, সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোছাদ্দিক আহমদ নোমান, সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোঃ শাহজাহান, কুলাউড়া গাজীপুর বিট কর্মকর্তা মোঃ আহমদ আলী প্রমুখ।
বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৮ সালে কুলাউড়া রেঞ্জ অফিসের কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘ ৬৫ বছর থেকে জরাজীর্ণ এই অফিসের বনবিভাগের কার্যক্রম চলছিলো জোড়াতালি দিয়ে। দীর্ঘদিন ধরে নতুন ভবনের দাবিটি উপেক্ষিত হলেও বর্তমান সরকারের বিশেষ করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন এমপি’র ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক রেঞ্জ কার্যালয় ভবনটি পেল কুলাউড়া বনবিভাগ। উল্লেখ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব নিরসনে সিলেট বন বিভাগে পুণঃবনায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৩৮ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মিত হয়েছে। এদিকে আগামী ৬ মাসের মধ্যে কুলাউড়া রেঞ্জ কার্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও ভবনটির দ্বিতীয় তলার ভবন নির্মাণ করে দেয়ার ঘোষণা দেন।




