ঈদুল আযহা সামনে রেখে চামড়ার ন্যায্যমূল্য ও সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
বার্তালোক ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ মে ২০২৬, ১:০৪ মিনিট
বার্তালোক ডেস্ক : আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, সঠিক সংরক্ষণ এবং নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে পৃথক দুটি মতবিনিময় ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এসব সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান।
এসময় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রথম সভায় কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, সঠিক সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, প্রতি বছর ঈদুল আযহায় বিপুল পরিমাণ চামড়া সংগ্রহ হলেও যথাযথ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার অভাবে অনেক চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। এতে মৌসুমি ব্যবসায়ী, এতিমখানা ও মাদরাসাসহ সংশ্লিষ্টরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং দেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনা থেকেও বঞ্চিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান বলেন, “কোরবানির পশুর চামড়া দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এই সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে চামড়া সংগ্রহ, লবণ প্রয়োগ ও সংরক্ষণ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী যেন চামড়া ক্রয়-বিক্রয় হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন কঠোর নজরদারি করবে। কোনো অসাধু চক্র যাতে সিন্ডিকেট তৈরি করে দাম কমিয়ে দিতে না পারে, সেজন্য বাজার তদারকি জোরদার করা হবে। পাশাপাশি এতিমখানা, মাদরাসা ও সাধারণ বিক্রেতারা যাতে ন্যায্যমূল্য পান, সে বিষয়েও প্রশাসন কাজ করবে বলে জানান তিনি।
সভায় প্রাণিসম্পদ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা চামড়া সংরক্ষণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে জানান, কোরবানির পর দ্রুত চামড়া পরিষ্কার করে পর্যাপ্ত পরিমাণ লবণ ব্যবহার করলে চামড়ার মান দীর্ঘসময় ভালো থাকে এবং বাজারমূল্যও বেশি পাওয়া যায়। অপরিকল্পিতভাবে ফেলে রাখা, রোদে শুকানো কিংবা ভেজা স্থানে সংরক্ষণ করলে চামড়ার গুণগত মান নষ্ট হয় বলেও তারা উল্লেখ করেন।
ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চামড়ার চাহিদা থাকলেও মানসম্মত সংরক্ষণের অভাবে কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাওয়া যায় না পাশাপাশি দেশের বাজারেও সঠিক দাম পাওয়া যায়না। এছাড়া ঢাকার ব্যবসায়িরাও চামড়ার মূল্য পরিশোধ করছেন না এতে করে স্থানীয় ব্যবসায়ি মূলধন ঘাটতি সমস্যার মধ্যে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এজন্য স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান তারা।
অপরদিকে দ্বিতীয় সভায় ঈদযাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে সড়ক নিরাপত্তা এবং জনসচেতনতা বিষয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। অতিরিক্ত যাত্রী বহন, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল এবং ট্রাফিক আইন অমান্যের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। তাই চালক, যাত্রী ও পথচারী—সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান বলেন, “ঈদ আনন্দের উৎসব। এই আনন্দ যেন কোনো দুর্ঘটনায় বিষাদে পরিণত না হয়, সেজন্য সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।”
তিনি জানান, মহাসড়কে যানজট নিরসন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ, ফিটনেসবিহীন যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং যাত্রীসেবার মান নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও বিশেষ নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি মোটরসাইকেল চালকদের হেলমেট ব্যবহার এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়াও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
সভায় উপস্থিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকেও সড়ক নিরাপত্তা ও চামড়ার ন্যায্যমূল্য বিষয়ে গণমাধ্যমের সচেতনতামূলক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভা শেষে কোরবানির পশুর চামড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণ, দ্রুত সংগ্রহ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন, ব্যবসায়ী, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।




